HAYUL WEBSITE

HAYUL WEBSITE

2007/11/1

সময়ের সেই ধ্বনি শুনতে কি পাস্‌ তোরা?

Tags:
@ 11:38 AM (8 months, 8 days ago)

Hayul Ahmed

BanglaCricket.com
'টীন-এজ' সময়টা বড়ই অদ্ভুত। ছেলেবেলার দুরন্তপনার সব তেজ তখনো সারা বুক জুড়ে। কারো চাল-চলন পছন্দ না তার উপর চড়াও হয়ে দফা-রফা করার সাহস আর ইচ্ছা দুটাই অদম্য! অন্ততঃ কথার মারপ্যাচে ভরা মজলিসে তাকে নিয়ে তামাসা করার মজা তো মিস্‌ করা যায়-ই না। দিন-রাতের ঠিক নাই, জানের জান ফ্রেন্ডস্‌-গ্রুপের আড্ডাবাজির মত মজা এই দুনিয়ায় আর কোথায়? সময়মত ঘুমাতে যাও, সকালে ঊঠে এটা কর সেটা কর... ইত্যাদি ইত্যাদি -এসব বোরিং লাইফ-স্টাইল জাহান্নামে যাক্‌।

কিন্তু আবার তাও তো সব না। স্কুল-পড়ুয়া ছেলে-মেয়ের মত দায়িত্ব-বিহীন সময়ও তো না। বাবা কিম্বা মায়ের অমুক আত্বীয়ের তমুক বার্ষিকীতে 'দায়িত্বশীল' সন্তানের ভঙ্গিতে গিয়ে বসে থাকা... অথবা বাড়ীর নিতান্ত বোরিং সব দায়িত্ব, যেটা বাবা-মা করতে পারলেও নিজে না করে সেই টীন-এজারকে পাঠিয়ে দেন। সেই সাথে বাচ্চা বয়েসের ছেলেমানুষি কথাবার্তা আর কেয়ারলেস্‌ টেম্পারমেন্টে দেখাতে গিয়ে গম্ভীর সব ‘গুরুজনে’র তিরষ্কারও হজম করতে হয় প্রায়ই! কারন আর কিছুই না -ও বড় হচ্ছে, করে খেতে শিখুক্‌‌! এ বড়ই মিশ্র এক অনুভুতি।

কিন্তু কোথায় যেন পরিবর্তন আসে সময়ের সাথে সাথে। টীন-এজ মন নিজে থেকেই যেন বুঝতে শুরু করে আশেপাশের মানুষগুলোর চাওয়া-না-চাওয়ার ব্যাপারটা। সময় থেমে থাকে না। সেই কখনও ‘সুইট’ কখনো ‘ইরিটেটীং’ (!) টীন-এজারই কবে যেন নিজের অজান্তেই হয়ে ওঠে বাকি সবার অবলম্বন, ভরসার স্থল। কথায়, কাজে, চিন্তায়, সাহসে সে হয়ে ওঠে তার অগ্রজদের চাইতে অনেক বেশী আত্ববিশ্বাসী আর সমাজ-সচেতন। সময়ের ভেল্কিতে কখন যে তার প্রতিটা মুহুর্ত আর প্রতিটা কাজ হয়ে ওঠে অন্য রকম অর্থবহ... তা দেখে নিজেই অবাক হয় সেই 'কেয়ারলেস্‌ মাইন্ড'। ধীরে ধীরে নিজে থেকেই উপভোগ করতে শুরু করে সে বড় হয়ে ঊঠার সমস্ত কারিশ্‌মা! একদিকে তরতাজা কিশোর মনের দুর্দান্ত সাহস আর দুনিয়া জয় করার স্বপ্ন, আরেকদিকে নবযুগের চোখ-ধাঁধানো গতিতে দুমড়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে ধুঁকতে থাকা ‘বুড়ো’দের ফেলে যাওয়া খেলাঘরে নতুন আলো জ্বালতে পারার আনন্দ। এই আনন্দ খুজতে খুজতেই সেই অর্থহীন কিশোর মন হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী আর দায়ীত্বশীল। নিজের মাঝে লুকানো অসীম ক্ষমতা, যা ছিল এতদিন শুধুই উপভোগের, তারই এক সম্পুর্ন নতুন অর্থ ভেসে উঠতে থাকে কিছু দিতে পারার, কিছু একটা গড়ে তুলতে পারার আনন্দে!

হ্যাঁ...বড়ই ধানাই-পানাই করে আমি আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কথাই বলছি। নাহ্‌... এই দলের একগাদা টীন-মেম্বারের জীবন কাহিনী বলছি না! বলছি দল হিসেবে প্রায় টীন-এজ স্ট্যাটাস পার হয়ে যাওয়া পুরো বাংলাদেশ-ক্রিকেটের জীবনধারার কথাই! এরা প্রমান করে ফেলেছে যে এরা অকম্মার ধাড়ী না। প্রমান করেছে শৈশবকে পেছনে ফেলে দিয়েছে তারা অনেক আগেই। সিরিয়াস খেলা খেললে এরা দু-চারটা বুড়ো হাড় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু আবার এটাও লুকাতে পারেনি যে, তা তারা কেবল তখনি পারে যেদিন হয়তোবা সকালের সূর্যের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে মন থেকে সকল ভয়-ডর উধাও হয়ে যায়। কিম্বা হয়তো পাড়া-পড়শীর তাচ্ছিল্যে দিগ্বিদিক জ্ঞ্যানশুন্য হয়ে গোটা তিনেক ‘ডাইনোসর’ কে টেনে-হিঁচড়ে ধরাশায়ী করে হুংকার দিয়ে ওঠে ‘দেখ্‌ বেটা… আমরাও পারি’!!

আবার এটাও সত্যি, যে সেই বয়সও এই দলের পার হয়ে গেছে, যখন কালে-ভদ্রে কারিশ্‌মা দেখিয়ে তারপর মাসের পর মাস শুয়ে বসে কাটালে কেউ মাইন্ড করবে না। পাড়ার লোকজন এখন বলা শুরু করেছে "ছি! ধাড়ী ছেলে কোথাকার! কাজ নাই কাম নাই খালি আড্ডাবাজী!"

একটাই কথা বলার আছে এদের প্রতিঃ দল হিসেবে তোদের টীন-এজ আনন্দের কোটা শেষ হয়ে আসছে বাছারা! ‘সদ্য-কৈশোর’ আর ‘পড়ন্ত-কৈশোর’কে কি এক নিক্তিতে মাপা যায়? তোদের আগুন-ঝরা ক্ষমতা যে আমরা দেখে ফেলেছি! মেঘে মেঘে বেলা তো কম হল না। পাড়ার লোকে হেসে গড়াগড়ি দেয়... ফ্লাড্‌-লাইটের আলোর নীচে শত ক্যামেরার রক্তচক্ষুর ফোকাসে এমন খেলা কেন খেল কি আর মানায় তোদের?

সারা বিশ্বের বাংলা-সন্তানেরা বুক-ভরা গর্বে এবার তোদের ‘যুবক’ হয়ে ওঠা দেখতে চায়!

সময়ের সেই ধ্বনি শুনতে কি পাস্‌ তোরা?

2007/10/3

Hayul Photo Eid

Tags:
@ 12:59 PM (9 months, 7 days ago)

http://img166.imageshack.us/img166/7060/inner101xi3.jpg

Eid Mubarak From Hayul Ahmed.